★ ২৭তম ছওম এর তারাবীহ ★

[মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদর। সর্বাধিক সম্ভাবনাময়]

আজ সোমবার দিবাগত রাত মহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদরের রাতে (সর্বাধিক সম্ভাবনাময়) ২৭তম ছওম এর তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআনের শেষ পারা (৩০তম পারা) তেলাওয়াত করা হবে।

৩০ তম পারা থেকে (সুরা নাবা এর ১নং আয়াত থেকে সুরা নাস এর শেষ আয়াত পর্যন্ত) সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হল:-

১। নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে, সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে। [ সুরা নাবা-২১,২২ ]

২। এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে (নিজের জন্য) ঠিকানা তৈরী করুক। [ সুরা নাবা-৩৯ ]

৩। যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে; এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। [ সুরা নাজিয়াত-৩৭-৩৯ ]

৪। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত। [ সুরা নাজিয়াত-৪০-৪১ ]

৫। যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে। [ সুরা নাজিয়াত-৪৬ ]

৬। সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, তার মাতা, তার পিতা, তার পত্নী ও তার সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন প্রত্যেকেরই নিজের একটাই চিন্তা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। [ সুরা আ’বাসা, ৩৪-৩৭ ]

৭। যখন আমলনামা খোলা হবে, যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে, যখন জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হবে, এবং যখন জান্নাত সন্নিকটবর্তী হবে, তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি উপস্থিত করেছে। [ সুরা তাকভীর-১০-১৪ ]

৮। আপনি জানেন, বিচার দিবস কি? যেদিন কেউ কারও কোন উপকার করতে পারবে না এবং সেদিন সব কতৃত্ব হবে আল্লাহর।
[ সুরা ইনফিতার-১৮-১৯ ]

৯। নিশ্চয়ই সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে, সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে। আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন। তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে। তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।
[ সুরা মুতাফফিফীন-২২-২৬ ]

১০। যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে।
[ সুরা ইনশিকাক-৭-৯ ]

১১। এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া হবে, সে মৃত্যুকে আহবান করবে, এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সেতো (দুনিয়াতে) তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আনন্দিতই ছিল। সে মনে করত যে, সে কখনও ফিরে যাবে না। কেন যাবে না, তার পালনকর্তা তো তাকে দেখতেন। [ সুরা ইনশিকাক-১০-১৫ ]

১২। যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে নিপীড়ন করেছে, অতঃপর তওবা করেনি, তাদের জন্যে আছে জাহান্নামের শাস্তি, আর আছে দহন যন্ত্রণা। [ সুরা বুরূজ-১০ ]

১৩। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্যে আছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় নির্ঝরিণীসমূহ। এটাই মহাসাফল্য।
[ সুরা বুরূজ-১১ ]

১৪। মানুষের ভেবে দেখা উচিত যে, কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে। নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম। [ সুরা তারিক-৫-৮ ]

১৫। নিশ্চয় কোরআন সত্য-মিথ্যার ফয়সালাকারী। এবং এটা উপহাস নয়। [ সুরা তারিক-১৩-১৪ ]

১৬। নিশ্চয়ই সে সাফল্য লাভ করবে, যে শুদ্ধ হয় এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করে, এবং অতঃপর নামায আদায় করে। বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও, অথচ পরকালের জীবনই তো সর্বোৎকৃষ্ট ও চিরস্থায়ী। [ সুরা আ’লা-১৪-১৭ ]

১৭। যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হতভাগা। তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে। [ সুরা বা’লাদ-১৯,২০ ]

১৮। যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করব।
[ সুরা লাইল-৫-৭ ]

১৯। নিশ্চয় কষ্টের পর স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের পর স্বস্তি রয়েছে। [ সুরা আলাম-নাশরাহ-৫,৬ ]

২০। আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতর অবয়বে। [ সুরা তীন-৪ ]

২১। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাটবদ্ধ রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। [ সুরা আলাক-১-৫ ]

২২। নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি ক্বদরের রাতে। আর ক্বদরের রাত সম্বন্ধে আপনি কি জানেন? ক্বদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, বিরাজ করে উষার আবির্ভাব পর্যন্ত। [ সুরা ক্বদর-১-৫ ]

২৩। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।
তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর। [ সুরা বাইয়্যেনাহ-৭,৮ ]

২৪। প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে; এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। [ সুরা তাকাসুর-১,২ ]

২৫। কসম সময়ের, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের। [ সুরা আসর-১-৩ ]

২৬। প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ। [ সুরা হুমাযা-১ ]

২৭। দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর। [ সুরা মাউন-৪,৫ ]

২৮। নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। যে আপনার শত্রু, সেই তো লেজকাটা, নির্বংশ। [ সুরা কাউসার-১-৩ ]

২৯। বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি; এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের ধর্ম (শিরক) তোমাদের জন্যে এবং আমার ধর্ম (ইসলাম) আমার জন্যে। [ সুরা কাফিরূন-১-৬ ]

৩০। বলুন, আল্লাহ এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী;
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি; এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। [ সুরা ইখলাস-১-৪ ]

৩১। বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার; তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে; অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়; গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে; এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে। [ সুরা ফালাক-১-৫ ]

৩২। বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার নিকট, মানুষের অধিপতির নিকট, মানুষের মা’বুদের নিকট। তার অনিষ্ট থেকে যে কুমন্ত্রণা দেয় ও যে আত্নগোপন করে। যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে। [ সুরা নাস-১-৬ ]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ২৬তম ছওম এর তারাবীহ ছলাত ★

[শবে ক্বদরের সম্ভাবনাময় শেষ দশকের একটি রাত]

আজ রবিবার  দিবাগত রাতে ২৬তম ছওম এর তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআনের ২৯তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৯তম পারা (সুরা মুলকের ১নং আয়াত থেকে সুরা মুরসালাতের ৫০নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হল:-

১। তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন খুঁত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টি ফেরাও; কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি? [ সুরা মুলক-৩ ]

২। অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ, তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। [ সুরা মুলক-৪ ]

৩। নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। [ সুরা মুলক-১২ ]

৪। মুত্তাকীদের জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে ভোগ বিলাসবহুল জান্নাত। [ সুরা কালাম-৩৪ ]

৫। যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি মাত্র ফুৎকার; এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে, সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে ধারন করবে। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না। [ সুরা হাক্বকাহ-১৩-১৮ ]

৬। ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ ধর ওকে গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও, অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে। অতঃপর তাকে শৃঙ্খলিত কর সত্তর হাত দীর্ঘ এক শিকলে। নিশ্চয় সে মহান আল্লাহতে বিশ্বাসী ছিল না।এবং মিসকীনকে আহার্য দিতে উৎসাহিত করত না। অতএব, আজকের দিন এখানে তার কোন সুহূদ নাই। এবং কোন খাদ্য নাই, ক্ষত-নিঃসৃত পুঁজ ব্যতীত। গোনাহগার ব্যতীত কেউ এটা খাবে না। [ সুরা হাক্বকাহ-৩০-৩৭ ]

৭। সেদিন আকাশ হবে গলিত তামার মত। এবং পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত, বন্ধু বন্ধুর খবর নিবে না। যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান-সন্ততিকে, তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে, তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত, এবং পৃথিবীর সবকিছুকে; অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে। কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি।
যা চামড়া তুলে দিবে। [ সুরা মা’য়ারিজ-৮-১৬ ]

৮। তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। [ সুরা নূহ-১৫,১৬ ]

৯। তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না। তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত। [ সুরা জ্বীন-২৬,২৭ ]

১০। আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি এবাদতের জন্যে দন্ডায়মান হন রাত্রির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও এক-তৃতীয়াংশ, এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দন্ডায়মান হয়। আল্লাহ দিবা ও রাত্রি পরিমাপ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পার না। অতএব তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমা পরায়ন হয়েছেন। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত হবে। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। [ সুরা মুযযাম্মিল-২০ ]

১১। অপরাধীদের সম্পর্কে বলা হবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না, আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত। [ সুরা মুদ্দাসসির-৪১-৪৭ ]

১২। মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে? সে কি স্খলিত বীর্য ছিল না? অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড, অতঃপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন যুগল নর ও নারী। তবুও কি সেই আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম নন? [ সুরা কিয়ামা’হ- ৩৬-৪০ ]

১৩। তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে। তারা বলেঃ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না। আমরা আমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে এক ভীতিপ্রদ ভয়ংকর দিনের ভয় রাখি। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে সেদিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে দিবেন সজীবতা ও আনন্দ। এবং তাদের সবরের প্রতিদানে তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক। [ সুরা দা’হর-৮-১২ ]

১৪। সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। এটা এমন দিন, যেদিন কেউ কথা বলবে না।এবং কাউকে তওবা করার অনুমতি দেয়া হবে না। [ সুরা মুরসালাত-৩৪-৩৬ ]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ২৫তম ছওম এর তারাবীহ ★

[অধিক সম্ভাবনার বেজোড় রাতের অন্যতম একটি রাত]

আজ   শনিবার দিবাগত রাতে ২৫তম ছওম সম্ভাবনার শবে ক্বদরের রাতে তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআনের ২৮তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৮তম পারা (সুরা মুজাদালাহর ১নং আয়াত থেকে সুরা তাহরীমের ১২নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো :-

১। আপনি কি অনুধাবন করেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ হিসাবে উপস্থিত না থাকেন; এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি ষষ্ঠ হিসাবে উপস্থিত না থাকেন; তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে আছেন। তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত। [ সুরা মুজাদালাহ-৭ ]

২। আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন সম্প্রদায় আপনি পাবেন না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচারীদের ভালোবাসে; হোক না এই বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে। [ সুরা মুজাদালাহ-২২ ]

৩। তাদের তুলনা হচ্ছে শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি। ফলে উভয়ের পরিনাম হবে জাহান্নাম এবং চিরকাল তথায় বসবাস করবে। এটাই জালেমদের কর্মফল। [ সুরা হাশর-১৬,১৭ ]

৪। মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। [ সুরা হাশর-১৮ ]

৫। যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। [ সুরা হাশর-২১ ]

৬। তোমাদের আত্মীয়-স্বজন ও সন্তান-সন্ততি কিয়ামতের দিন কোন উপকারে আসবে না। তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। [ সুরা মুমতাহিনা-৩ ]

৭। ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। [ সুরা মুমতাহিনা-৮ ]

৮। আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাইতো জালেম। [ সুরা মুমতাহিনা-৯ ]

৯। মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে, যেমন কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে সমাধিস্থদের বিষয়ে। [ সুরা মুমতাহিনা-১৩ ]

১০। মুমিনগণ, তোমরা যা কর না, তা কেন বল?
তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে খুবই অসন্তোষজনক। [ সুরা সফ-২,৩ ]

১১। যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে সারিবদ্ধভাবে সীসাগালানো প্রাচীরের মত, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন। [ সুরা সফ-৪ ]

১২। স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ। অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু। [ সুরা সফ-৬ ]

১৩। তারা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। [ সুরা সফ-৮ ]

১৪। মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ। [ সুরা সফ-১০,১১ ]

১৫। মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। [ সুরা জুম’য়া-৯ ]

১৬। অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর; ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। [ সুরা জুম’য়া-১০ ]

১৭। মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। [ সুরা মুনাফিক্বুন-৯ ]

১৮। আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সাদকাহ করতাম এবং সৎ কর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। [ সুরা মুনাফিক্বুন-১০ ]

১৯। প্রত্যেক ব্যক্তির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকে অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন। [ সুরা মুনাফিক্বুন-১১ ]

২০। আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে, তিনি তার অন্তরকে সৎপথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত। [ সুরা তাগাবুন-১১ ]

২১। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল পরীক্ষা। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার। [ সুরা তাগাবুন-১৫ ]

২২। তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে চাও, তখন তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে, এবং ইদ্দত গণনা করে, এবং তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে। তোমরা তাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বহিস্কার করো না এবং তারাও যেন বের না হয়; যদি না তারা কোন সুস্পষ্ট নির্লজ্জ কাজে লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালংঘন করে, সে নিজেরই অনিষ্ট করে। সে জানে না, হয়তো আল্লাহ এই তালাকের পর কোন নতুন উপায় করে দেবেন। [ সুরা তালাক-১ ]

২৩। অতঃপর তাদের ইদ্দতকাল পূরন হলে, হয় তাদেরকে যথোপযুক্ত পন্থায় রেখে দেবে অথবা যথোপযুক্ত পন্থায় ছেড়ে দেবে; এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখবে। তোমরা আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য দিও। এতদ্দ্বারা যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির ব্যবস্থা করে দেবেন। [ সুরা তালাক-২ ]

২৪। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার সমস্যার সমাধান সহজ করে দিবেন। [ সুরা তালাক-৪ ]

২৫। মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর। যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে। [ সুরা তাহরীম-৬ ]

২৬। মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর, আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে আল্লাহ অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান। [ সুরা তাহরীম-৮ ]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ২৪তম ছওম এর তারাবীহ ★

২৪তম ছওম এর তারাবীহ ★[শবে ক্বদরের সম্ভাবনাময় শেষ দশকের একটি রাত]

আজ শুক্রবার দিবাগত রাতে ২৪তম ছওম এর (শবে ক্বদরের সম্ভাবনাময় শেষ দশকের একটি রাত) তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআনের ২৭তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৭তম পারা (সুরা যারিয়া’ত এর ৩১নং আয়াত থেকে সুরা হাদীদের ২৯নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হল:-

১। আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর। [ সুরা যারিয়া’ত-৪৯ ]

২। আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। [ সুরা যারিয়া’ত-৫৬ ]

৩। নিশ্চয় খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নেয়ামতে। তারা উপভোগ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদের দেবেন এবং তিনি জাহান্নামের আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন। তাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর। তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করে দেব।
যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, আমি তাদেরকে তাদের সন্তান-সন্ততির সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না।
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃত কর্মের জন্য দায়ী।
আমি তাদেরকে দেব ফল-মূল এবং মাংস যা তারা চাইবে।
সেখানে তারা একে অপরকে পানপাত্র দেবে; যাতে অসার বকাবকি নেই এবং পাপকর্মও নেই। সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। [ সুরা তুর-১৭-২৪ ]

৪। আপনার পালনকর্তার নির্দেশের অপেক্ষায় সবর করুন। আপনি আমার দৃষ্টির সামনেই রয়েছেন এবং আপনি আপনার পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন যখন আপনি শয্যা ত্যাগ করেন। এবং রাত্রির কিছু অংশে এবং তারকা অস্ত গমনের পর তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন। [ সুরা তুর-৪৮,৪৯ ]

৫। যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে, ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা অপরিসীম। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন; যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রুণরুপে অবস্থান কর। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে মুত্তাকী। [ সুরা নাজম-৩২ ]

৬। কোন ব্যক্তি অপরের গোনাহ বহন করবে না। এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে।[ সুরা নাজম-৩৮,৩৯ ]

৭। আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, উপদেশ গ্রহনকারী কেউ আছে কি? [ সুরা ক্বামার-১৭ ]

৮। নিশ্চয়ই অপরাধীরা পথভ্রষ্ট ও বিকারগ্রস্ত। যেদিন তাদেরকে মুখ হিঁচড়ে টেনে নেয়া হবে জাহান্নামের দিকে; বলা হবেঃ জাহান্নামের আযাব আস্বাদন কর। [ সুরা ক্বামার-৪৭,৪৮ ]

৯। তাদের সমস্ত কার্যকলাপ আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে। ছোট ও বড় সবই লিপিবদ্ধ। [ সুরা ক্বামার-৫২,৫৩ ]

১০। তোমরা ওজনের ন্যায্য মান প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওজনে কম দিয়ো না। [ সুরা আর-রহমান-৯ ]

১১। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে। এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? [ সুরা আর-রহমান-১৪-১৬ ]

১২। ভূপৃষ্টের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র আপনার মহিমায় ও মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া। [ সুরা আর-রহমান-২৬,২৭ ]

১৩। এটাই জাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা মিথ্যা বলত। তারা জাহান্নামের অগ্নি ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটোছুটি করবে। [ সুরা আর-রহমান-৪৩,৪৪ ]

১৪। উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত আর কি হতে পারে? [ সুরা আর-রহমান-৬০ ]

১৫। যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে, এটার সংঘটন অস্বীকার করার কেউ থাকবে না। এটা কেহকে করে দেবে নীচু, কেহকে করে দেবে সমুন্নত। যখন প্রবলভাবে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী। এবং পর্বতমালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। অতঃপর তা হয়ে যাবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা। [ সুরা ওয়াক্বিয়া-১-৬ ]

১৬। যারা ডান দিকে থাকবে, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল। তারা থাকবে এক উদ্যানে, যেখানে থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বৃক্ষ। এবং কাঁদি কাঁদি কলায়, এবং দীর্ঘ ছায়ায় এবং প্রবাহিত পানিতে, ও প্রচুর ফল-মূলে, যা শেষ হবার নয় এবং নিষিদ্ধও নয়। আর থাকবে সমুন্নত শয্যায়। আমি জান্নাতী রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি।
অতঃপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী।সোহাগিনী, সমবয়স্কা। (এ সবই) ডান দিকের লোকদের জন্যে। [ সুরা ওয়াক্বিয়া-২৭-৩৮ ]

১৭। বাম দিকের লোক, কত না হতভাগা বামদিকের দল। তারা থাকবে প্রখর বাষ্পে এবং উত্তপ্ত পানিতে, এবং ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায়। যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।
তারাতো ইতিপূর্বে মগ্ন ছিল ভোগবিলাসে। এবং তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত। তারা বলতঃ আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হব? এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও! বলুনঃ পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ,
সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে। অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যারোপকারীগণ। তোমরা অবশ্যই ভক্ষণ করবে যাক্কুম বৃক্ষ থেকে, অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে, অতঃপর তার উপর পান করবে উত্তপ্ত পানি। পান করবে পিপাসিত উটের ন্যায়। কেয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন। [ সুরা ওয়াক্বিয়া-৪১-৫৬ ]

১৮। তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই ব্যপ্ত, তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সব বিষয়ে সম্যক অবহিত। [ সুরা হাদীদ-৩ ]

১৯। তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সাথেই আছেন । তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন। [ সুরা হাদীদ-৪ ]

২০। কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ধার দিবে? এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার। [ সুরা হাদীদ-১১ ]

২১। নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ বেশী এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার। [ সুরা হাদীদ-১৮ ]

২২। মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি নিজে অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদেরকে দিবেন। তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়। [ সুরা হাদীদ-২৮ ]

( সূরা যারিয়াত ৩১-৬০)

পারার শুরুতে ফেরাউন সম্প্রদায়, আদ ও সামুদ জাতি এবং হজরত নুহ ও লুত (আ.) এর সম্প্রদায়ের পরিণতি কী হয়েছিল, তা তুলে ধরা হয়েছে। এরপর আসমান-জমিন সৃষ্টির প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। সূরার শেষাংশে জিন ও মানবজাতি সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার জন্য এবং তার মারেফত হাসিল করার জন্য। প্রত্যেকের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার ওপর। তবে যারা কুফর ও শিরকে লিপ্ত হবে, অচিরেই তাদের ওপর অবধারিত আজাব নেমে আসবে।

(সূরা তূর, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৪৯, রুকু ২)

সূরায় জাহান্নামের ভয়াবহতা এবং জান্নাতে মুত্তাকিদের পুরস্কার সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। নবীজির দাওয়াতের বিপরীতে মুশরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্যের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের এহেন আচরণের বিপরীতে নবীজিকে দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রাখার হুকুম দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষাংশে আল্লাহ তায়ালার প্রভুত্ব ও একত্ববাদের দলিল পেশ করা হয়েছে, কাফের মুশরিকদের ভ্রান্ত চিন্তাধারা খ-ন করা হয়েছে এবং যারা ফেরেশতাদের আল্লাহ তায়ালার কন্যাসন্তান বলে আখ্যায়িত করে, তাদের নিন্দা জানানো হয়েছে।

(সূরা নাজ্ম, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৬২, রুকু ৩)

সূরার শুরুতে রাসুল (সা.) এর সত্যবাদিতা এবং মেরাজের বিবরণ রয়েছে। (১-১৮)।

যারা মূর্তির উপাসনা করে, ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা সাব্যস্ত করে, তাদের নিন্দা করা হয়েছে। (১৯-২৩)।

সূরায় কেয়ামতের বর্ণনা রয়েছে, যেখানে সবকিছুর চূড়ান্ত ফায়সালা হয়ে যাবে। (৩২-৩৫)।

এরপর বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকেই নিজ কৃতকর্মের জিম্মাদার।

কারও গোনাহের বোঝা অপরের কাঁধে চাপানো হবে না। (৩৮-৪১)।

আল্লাহর কুদরতের বর্ণনা দিয়ে সূরার সমাপ্তি হয়েছে।

সূরা ক্বমার, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫৫, রুকু ৩

সূরায় মোমিনদের জন্য সুসংবাদ, নাফরমানদের জন্য সতর্কবাণী এবং বিভিন্ন হিতোপদেশের কথা আলোচিত হয়েছে। এছাড়া রিসালাত, আখেরাত, বিচার দিবস এবং তাকদিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আকিদার আলোচনা রয়েছে সূরায়। সূরার শুরুতে কেয়ামতের আসন্নতার কথা বলার পর নবীজির বিশেষ মোজেজা তথা হাতের ইশারায় চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সূরায় পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন জাতির আলোচনার পর বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘বল, কেমন ছিল আমার সাজা-শাস্তি!’ এ প্রশ্ন করার পাশাপাশি

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ২৩তম ছওম এর তারাবীহ ★

[শবে ক্বদরের অধিকতম সম্ভাবনাময় বেজোড় রাত]

আজ   বৃহস্পতিবার এশার ছলাতের পর ২৩তম ছওম এর (শবে ক্বদরের অধিকতম সম্ভাবনাময় বেজোড় রাতের অন্যতম একটি রাত) তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআনের ২৬তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৬তম পারা (সুরা আহক্বাফ এর ১নং আয়াত থেকে সুরা যারিয়া’ত এর ৩০ আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো :-

১। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর। [সুরা আহক্বাফ-৫]

২। নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ; অতঃপর অবিচল থাকে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না। [সুরা আহক্বাফ-১৩]

৩। যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের কাছে উপস্থিত করা হবে সেদিন বলা হবে, তোমরা তোমাদের সুখ পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করেছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ। সুতরাং আজ তোমাদেরকে অপমানকর আযাবের শাস্তি দেয়া হবে; কারণ, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে অহংকার করতে এবং তোমরা ছিলে সত্যদ্রোহী। [সুরা আহক্বাফ-২০]

৪। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়; কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না। কেননা তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত। [সুরা আহক্বাফ-২৬]

৫। তোমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ মার্জনা করবেন এবং যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করবেন। [সুরা আহক্বাফ-৩১]

৬। যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহ তাদের সকল কর্ম ব্যর্থ করে দেন। [সুরা মুহাম্মাদ-১]

৭। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। [সুরা মুহাম্মাদ-৪]

৮। আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক এবং কাফেরদের কোন অভিভাবক নাই। [সুরা মুহাম্মাদ-১১]

৯। পরহেযগারদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর, যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও আছে তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। পরহেযগাররা কি তাদের সমান, যারা জাহান্নামে অনন্তকাল থাকবে এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি, অতঃপর তা তাদের নাড়িভূঁড়ি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেবে? [সুরা মুহাম্মাদ-১৫]

১০। যারা সৎপথ অবলম্বন করে আল্লাহ তাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেন, এবং তাদেরকে মুত্তাকী হওয়ার শক্তি দান করেন। [সুরা মুহাম্মাদ-১৭]

১১। যখন কোন দ্ব্যর্থহীন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জেহাদের উল্লেখ করা হয়, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে, আপনি তাদেরকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত মানুষের মত আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখবেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্যে। [সুরা মুহাম্মাদ-২০]

১২। তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? [সুরা মুহাম্মাদ-২৪]

১৩। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না। [সুরা মুহাম্মাদ-৩৩]

১৪। অতএব, তোমরা হীনবল হয়ো না এবং সন্ধির প্রস্তাব করো না, তোমরাই হবে প্রবল। আল্লাহই তোমাদের সাথে আছেন। তিনি কখনও তোমাদের কর্মফল হ্রাস করবেন না। [সুরা মুহাম্মাদ-৩৫]

১৫। তোমরাই তো তারা, যাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার আহবান জানানো হচ্ছে, অতঃপর তোমাদের কেউ কেউ কৃপণতা করছে। যারা কৃপণতা করছে, তারা নিজেদের প্রতিই কৃপণতা করছে। আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা অভাবগ্রস্থ। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, এরপর তারা তোমাদের মত হবে না। [সুরা মুহাম্মাদ-৩৮]

১৬। তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। [সুরা ফাতাহ-৪]

১৭। আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি স্বাক্ষী রূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে। [সুরা ফাতাহ-৮]

১৮। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান। [সুরা ফাতাহ-১৪]

১৯। মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। [সুরা হুজুরাত-৬]

২০। যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনসাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে পছন্দ করেন। [সুরা হুজুরাত-৯]

২১। মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও। [সুরা হুজুরাত-১০]

২২। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ ঈমান আনার পর তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ করা থেকে তওবা না করে তারাই যালেম। [সুরা হুজুরাত-১১]

২৩। মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং কারও গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়া পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরাতো একে ঘৃণাই মনে কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। [সুরা হুজুরাত-১২]

২৪। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। [সুরা হুজুরাত-১৩]

২৫। তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে জীবন ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ। [সুরা হুজুরাত-১৫]

২৬। আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয়, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। [সুরা ক্বাফ-১৬]

২৭। দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল লিপিবদ্ধ করে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। [সুরা ক্বাফ-১৭-১৮]

২৮। যে আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কোরআনের সাহায্যে উপদেশ দান করুন। [সুরা ক্বাফ-৪৫]

২৯। সেদিন আল্লাহভীরুরা প্রস্রবণ বিশিষ্ট জান্নাতে থাকবে। এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। কারন পার্থিব জীবনে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ; তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত, এবং তাদের ধন-সম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক ছিল। [সুরা যারিয়া’ত-১৫-১৯] (সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ২২তম ছওম এর তারাবীহ ★

আজ  বুধবার দিবাগত রাতে ২২তম ছওম এর (সম্ভাবনার শবে ক্বদরের রাত, শেষ দশকের অন্যতম একটি রাত) তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআনের ২৫তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৫তম পারা (সুরা হা-মীম এর ৪৭ আয়াত থেকে সুরা যাসিয়ার শেষ আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো :-

১। কেয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই ন্যস্ত। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোন ফল আবরণ হতে বের হয় না। এবং কোন নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। [সুরা হা-মীম-৪৭]

২। আমি যখন মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পার্শ্ব পরিবর্তন করে নেয়। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দোয়া করতে থাকে। [সুরা হা-মীম-৫১]

৩। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা, রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। [সুরা শূরা-১৯]

৪। যে কেউ পরকালের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্যে সেই ফসল বাড়িয়ে দেই। আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমি তাকে তার কিছু দিয়ে দেই এবং পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না। [সুরা শূরা-২০]

৫। তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন, পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তিনি তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। [সুরা শূরা-২৫]

৬। তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল; এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন। [সুরা শূরা-৩০]

৭। তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। তাদের জন্যে, যারা ঈমান আনে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে। [সুরা শূরা-৩৬]

৮। যে সবর করে ও ক্ষমা করে দেয়, নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ। [সুরা শূরা-৪৩]

৯। আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অবশ্যম্ভাবী দিবস আসার পূর্বে তোমরা তোমাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য কর। সেদিন তোমাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তা নিরোধকারী কেউ থাকবে না। [সুরা শূরা-৪৭]

১০। নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুযে। [সুরা যূখরুফ-৪]

১১। আমার সম্পর্ক তাঁর সাথে, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তিনিই আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করবেন। [সুরা যূখরুফ-২৭]

১২। যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। [সুরা যূখরুফ-৩৬]

১৩। শয়তান যেন কিছুতেই তোমাদেরকে নিবৃত্ত না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সুরা যূখরুফ-৬২]

১৪। বরকতময় তিনিই; নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর সার্বভৌম অধিপতি। তাঁরই কাছে আছে কেয়ামতের জ্ঞান এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [সুরা যূখরুফ-৮৫]

১৫। আমি একে (কোরআন) নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। [সুরা দুখান-৩]

১৬। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।
আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী।
আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। [সুরা দুখান-৪-৬]

১৭। ফেরাউন, সে ছিল সীমালংঘনকারীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয়।
আমি জেনেশুনে তাদেরকে বিশ্ববাসীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। [সুরা দুখান-৩১-৩২]

১৮। আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
আমি এগুলো অযথা সৃষ্টি করিনি; কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা বোঝে না। [সুরা দুখান-৩৮-৩৯]

১৯। নিশ্চয় খোদাভীরুরা নিরাপদ স্থানে থাকবে- উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে।
তারা পরিধান করবে চিকন ও পুরু রেশমীবস্ত্র, মুখোমুখি হয়ে বসবে।
এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে সঙ্গি দিব আনতলোচনা হুর।
তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফল-মূল আনতে বলবে।
প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না; এবং আপনার পালনকর্তা তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন।
আপনার পালনকর্তার কৃপায় এটাই মহা সাফল্য। [সুরা দুখান-৫১-৫৭]

২০। সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। [সুরা যাসিয়া-৮]

২১। যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। [সুরা যাসিয়া-৯]

২২। আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না। [সুরা যাসিয়া-১৮]

২৩। যালেমরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ পরহেযগারদের বন্ধু। [সুরা যাসিয়া-১৯]

২৪। আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার উপার্জনের ফল পায়। তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। [সুরা যাসিয়া-২২]

২৫। নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [সুরা যাসিয়া-২৭]

২৬। আমার কাছে রক্ষিত এই আমলনামা, যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য স্বাক্ষ্য দিবে। তোমরা যা করতে আমি তা লিপিবদ্ধ করতাম। [সুরা যাসিয়া-২৯]

২৭। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদেরকে তাদের পালনকর্তা স্বীয় রহমতে দাখিল করবেন। এটাই প্রকাশ্য সাফল্য। [সুরা যাসিয়া-৩০]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ২১তম ছওম এর তারাবীহ ★

[শবে ক্বদরের অধিকতর সম্ভাবনাময় রাত]

আজ মঙ্গলবার এশার ছলাতের পর ২১তম ছওম এর শবে ক্বদরের সম্ভাবনাময় রাতে (অধিকতর সম্ভাবনার বেজোড় রাতের অন্যতম একটি রাত) তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআনের ২৪তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৪তম পারা (সুরা যুমার এর ৩২ আয়াত থেকে সুরা হা-মীম এর ৪৬ আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-

১। যারা সত্য নিয়ে আগমন করেছে এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে; তারাই তো আল্লাহভীরু।তাদের জন্যে পালনকর্তার কাছে তাই রয়েছে, যা তারা চাইবে। এটা সৎকর্মীদের পুরস্কার। [সুরা যুমার-৩৩-৩৪]

২। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। [সুরা যুমার-৩৭]

৩। আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, এবং যারা মরেনি তাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। অতঃপর যার জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন, তার প্রাণ তিনি রেখে দেন, এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [সুরা যুমার-৪২]

৪। যখন একক আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়ে যায়; আর যখন আল্লাহ ব্যতীত তাদের দেবতাদের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে। [সুরা যুমার-৪৫]

৫। মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকতে শুরু করে। এরপর আমি যখন তাকে আমার পক্ষ থেকে নেয়ামত দান করি, তখন সে বলে, এটা তো আমি আমার জ্ঞানের মাধ্যমে লাভ করেছি। অথচ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না। [সুরা যুমার-৪৯]

৬। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সুরা যুমার-৫৩]

৭। আল্লাহ মুত্তাকীদের উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ; তাদেরকে অনিষ্ট স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না। [সুরা যুমার-৬১]

৮। যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত। অতঃপর আবার শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে। [সুরা যুমার-৬৮]

৯। পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, নবীগনকে ও সাক্ষীগণকে হাজির করা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে ও তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। [সুরা যুমার-৬৯]

১০। কাফেরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌছাবে, তখন জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে; এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে কোন পয়গম্বর আসেনি, যারা তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করত এবং সতর্ক করত এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে? তারা বলবে, হ্যাঁ, অবশ্যই এসেছিল। বস্তুত কাফেরদের প্রতি শাস্তির হুকুমই বাস্তবায়িত হয়েছে। [সুরা যুমার-৭১]

১১। যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর চিরস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। [সুরা যুমার-৭৩]

১২। (আল্লাহ) যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং তওবা কবুল করেন; যিনি শাস্তিদানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট। [সুরা মু’মিন-৩]

১৩। যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চতুস্পার্শ ঘিরে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে; তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথ অবলম্বন করে চলে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। [সুরা মু’মিন-৭]

১৪। তোমরা আল্লাহকে ডাক তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। [সুরা মু’মিন-১৪]

১৫। আপনি তাদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করুন, যখন দুঃখ কষ্টে তাদের প্রাণ কন্ঠাগত হবে, দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। পাপিষ্ঠদের জন্যে কোন বন্ধু নেই এবং সুপারিশকারীও নেই; যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে। [সুরা মু’মিন-১৮]

১৬। যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতন্ডায় লিপ্ত হয়, তাদের একাজ আল্লাহ ও মুমিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃনাহ। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন। [সুরা মু’মিন-৩৫]

১৭। পার্থিব জীবনতো কেবল অস্থায়ী উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে চিরস্থায়ী বসবাসের গৃহ। [সুরা মু’মিন-৩৯]

১৮। তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা তাঁকেই ডাক তাঁর এবাদতে একনিষ্ঠ হয়ে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর প্রাপ্য। [সুরা মু’মিন-৬৫]

১৯। তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি এবং দেখেনি তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছিল? তারা তাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশী এবং শক্তি ও কীর্তিতে অধিক প্রবল ছিল। অতঃপর তাদের কর্ম তাদেরকে কোন উপকার দেয়নি। [সুরা মু’মিন-৮২]

২০। নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। [সুরা হা-মীম-৮]

২১। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা। [সুরা হা-মীম-১২]

২২। ঐ ব্যক্তির কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার, যে আল্লাহর দিকে মানুষকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমিতো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত। [সুরা হা-মীম-৩৩]

২৩। এ গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা ধৈর্য্যশীল; এবং এ গুণের অধিকারী করা হয় শুধু তাদেরকেই যারা মহা ভাগ্যবান। [সুরা হা-মীম-৩৫]

২৪। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; সেজদা কর শুধু আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা প্রকৃত তাঁরই এবাদত কর। [সুরা হা-মীম-৩৭]

২৫। আমি যদি আরবী ভাষায় কোরআন নাজিল না করতাম, তবে অবশ্যই তারা বলত, এর আয়াতসমূহ পরিস্কার ভাষায় বিবৃত করা হয়নি কেন? কি আশ্চর্য যে, এ কিতাবের ভাষা অনারবীয় এবং রসূল আরবী ভাষী! বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কানে আছে বধিরতা, আর কোরআন তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়। [সুরা হা-মীম-৪৪]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ২০তম ছওম এর তারাবীহ ★

আজ সোমবার ১৯তম রমাদান, ১৪৪৬ হিজরি এশার ছলাতের পর ২০তম ছওম এর তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআন থেকে ২৩তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২৩তম পারা (সুরা ইয়া-সীনের ২২নং আয়াত থেকে সুরা যুমারের ৩১নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

১। পবিত্র মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানেনা, তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। [ সুরা ইয়া-সীন-৩৬ ]

২। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। [ সুরা ইয়া-সীন-৪০ ]

৩। যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫১ ]

৪। আজকের দিনে কারও প্রতি জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করবে কেবল তারই প্রতিফল পাবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৪ ]

৫। এদিন জান্নাতীরা আনন্দে মগ্ন থাকবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৫ ]

৬। তারা এবং তাদের সঙ্গিনীরা সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৬ ]

৭। সেখানে তাদের জন্যে থাকবে ফলমূল এবং থাকবে যা তারা ফরমায়েশ করবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৭ ]

৮। করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে ‘সালাম’। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৮ ]

৯। আর হে অপরাধীরা! আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও। [ সুরা ইয়া-সীন-৫৯ ]

১০। হে আদম সন্তান! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু? [ সুরা ইয়া-সীন-৬০ ]

১১। এই সে জাহান্নাম, যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেয়া হতো। [ সুরা ইয়া-সীন-৬৩ ]

১২। আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৬৫ ]

১৩। মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্র বিন্দু থেকে? অথচ পরে সে হয়ে পরে প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী। [ সুরা ইয়া-সীন-৭৭ ]

১৪। তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলে দেন, `হও’ ; তখনই তা হয়ে যায়। [ সুরা ইয়া-সীন-৮২ ]

১৫। অতএব পবিত্র তিনি, যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব এবং তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। [ সুরা ইয়া-সীন-৮৩ ]

১৬। তোমরা অবশ্যই বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করবে। তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল পাবে।
তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা। তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি; ফল-মূল এবং তারা হবে সম্মানিত।
নেয়ামতের উদ্যানসমূহ; তারা মুখোমুখি আসনে আসীন হবে।
তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সূরাপূর্ণ পাত্র, স্বচ্ছ সুশুভ্র, যা হবে পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
তাতে ক্ষতিকর কোন উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না।
আর তাদের সংগে থাকবে নত, আয়তলোচনা হুরবৃন্দ। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। [ সুরা সাফফাত-৩৮-৪৯ ]

১৭। নিশ্চয় এই মহা সাফল্য।
এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত। [ সুরা সাফফাত-৬০,৬১ ]

১৮। এই কি উত্তম আপ্যায়ন, না যাক্কুম বৃক্ষ?
আমি যালেমদের জন্যে একে বিপদ করেছি।
এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে।
এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত।
কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে। তদুপরি তাদেরকে দেয়া হবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ, অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের দিকে। [ সুরা সাফফাত-৬২-৬৮ ]

১৯। ইব্রাহীম বললঃ তোমরা নিজেরা যাদেরকে স্বহস্তে খোদাই করে নির্মান কর, তোমরা কি তাদেরই পূজা কর? অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। [ সুরা সাফফাত-৯৫,৯৬ ]

২০। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাবদিবসকে ভূলে যায়। [ সুরা সা’দ-২৬ ]

২১। আমি আসমান-যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোন কিছু অযথা সৃষ্টি করিনি। [ সুরা সা’দ-২৭ ]

২২। জেনে রাখ, অবিমিশ্র এবাদত আল্লাহরই প্রাপ্য। যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে রেখেছে এবং বলে যে, আমরা তাদের উপাসনা এ জন্যেই করি যে, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দেবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফের, আল্লাহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না। [ সুরা যুমার-৩ ]

২৩। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন; এবং তিনি তোমাদের জন্যে দিয়েছেন আট প্রকার গৃহপালিত পশু। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। তিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা, সার্বভৌমত্ব তাঁরই। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব, তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? [ সুরা যুমার-৬ ]

২৪। যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর বান্দাদের অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপের ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত। [ সুরা যুমার-৭ ]

২৫। হে আমার বিশ্বাসী বান্দাগণ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে পুণ্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত। যারা সবরকারী, তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত। [ সুরা যুমার-১০ ]

২৬। যারা শয়তানী শক্তির পূজা-অর্চনা থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। অতএব, সুসংবাদ দিন আমার বান্দাদেরকে। [ সুরা যুমার-১৭ ]

২৭। আল্লাহ উত্তম বাণী তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পূনঃ পূনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে চামড়ার উপর, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে; এরপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। [ সুরা যুমার-২৩ ]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




★ ১৯তম ছওম তারাবীহ ★

আজ রবিবার ১৮তম রমাদান, ১৪৪৫ হিজরি এশার ছলাতের পর ১৯তম ছওম এর তারাবীহ এর ছলাতে পবিত্র কোরআন থেকে ১৯তম ছওম এর তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআন থেকে ২২তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২২তম পারা (সুরা আহযাবের ৩১নং আয়াত থেকে সুরা ইয়া-সীনের ২১নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

১। তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবে, আমি তাকে দুবার পুরস্কার দেব; এবং তার জন্য আমি সম্মানজনক রিযিক প্রস্তুত রেখেছি। [ সুরা আহযাব-৩১ ]

২। নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, , যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার। [ সুরা আহযাব-৩৫ ]

৩। আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। কেহ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করলে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। [ সুরা আহযাব-৩৬ ]

৪। মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞাত। [ সুরা আহযাব-৪০ ]

৫। মুমিনগণ তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর। [ সুরা আহযাব-৪১ ]

৬। তিনিই তোমাদের প্রতি রহমত করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও তোমাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন-অন্ধকার থেকে তোমাদেরকে আলোয় নিয়ে আসার জন্য। তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। [ সুরা আহযাব-৪৩ ]

৭। আপনি কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না এবং তাদের উৎপীড়ন উপেক্ষা করুন ও আল্লাহর উপর ভরসা করুন। আল্লাহ কার্যনিবার্হীরূপে যথেষ্ট। [ সুরা আহযাব-৪৮ ]

৮। আল্লাহ তাঁর নবীর প্রতি রহমত করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও তাঁর নবীর জন্য রহমতের দোয়া করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। [ সুরা আহযাব-৫৬ ]

৯। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি। [ সুরা আহযাব-৫৭ ]

১০। হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। [ সুরা আহযাব-৫৯ ]

১১। লোকেরা আপনাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। আপনি কি করে জানবেন যে সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটেই। [ সুরা আহযাব-৬৩ ]

১২। তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম, অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল।

হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন। [ সুরা আহযাব-৬৭,৬৮ ]

১৩। কাফেররা বলে আমাদের উপর কেয়ামত আসবে না। বলুন কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ-অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে তাঁর আগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ; সমস্তই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে। [ সুরা সা’বা-৩ ]

১৪। যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়, তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। [ সুরা সা’বা-৫ ]

১৫। যখন আমি সোলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন জিনদেরকে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করল ঘুণ পোকাই, যা সোলায়মানের লাঠি খেয়ে যাচ্ছিল। যখন সোলায়মান মাটিতে পড়ে গেলেন, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে, জিনদের যদি অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান থাকতো, তাহলে তারা এই লাঞ্ছনাপূর্ণ শাস্তিতে আবদ্ধ থাকতো না। [ সুরা সা’বা-১৪ ]

১৬। যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেশতাদেরকে বলবেন, এরা কি তোমাদেরই পূজা করত? [ সুরা সা’বা-৪০ ]

১৭। ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র; আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা জিনদের পূজা করত। তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী। [ সুরা সা’বা-৪১ ]

১৮। অতএব আজকের দিনে তোমরা একে অপরের কোন উপকার ও অপকার করার অধিকারী হবে না। আর আমি জালেমদেরকে বলব, তোমরা আগুনের যে শাস্তিকে মিথ্যা বলতে তা আস্বাদন কর। [ সুরা সা’বা-৪২ ]

১৯। বলুন, আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না বরং তা তোমরাই রাখ। আমার পুরস্কার তো আল্লাহর কাছে রয়েছে। তিনি প্রত্যেক বস্তুরই দ্রষ্টা। [ সুরা সা’বা-৪৭ ]

২০। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহ; তারা দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি তার সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। [ সুরা ফাতির-১ ]

২১। হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। সুতরাং, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে প্রতারণা না করে। এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে। [ সুরা ফাতির-৫ ]

২২। তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকটি আবর্তন করে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। ইনি আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়। [ সুরা ফাতির-১৩ ]

২৩। যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে, এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার যাতে কখনও লোকসান হবে না। [ সুরা ফাতির-২৯ ]

২৪। আপনি আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না। [ সুরা ফাতির-৪৩ ]

২৫। যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের কৃতকর্মের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভুপৃষ্ঠে চলমান কাউকে ছেড়ে দিতেন না। কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন। অতঃপর যখন সে নির্দিষ্ট মেয়াদ এসে যাবে তখন আল্লাহ হবেন তাঁর বান্দাদের সম্যক দ্রষ্টা। [ সুরা ফাতির-৪৫ ]

২৬। আমিই মৃতদেরকে জীবিত করি এবং তাদের কর্ম ও কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করি। আমি প্রত্যেক বস্তু স্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত রেখেছি। [ সুরা ইয়া-সীন-১২ ]

২৭। হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর। অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত। [ সুরা ইয়া-সীন-২০,২১ ]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)




                         ★ ১৮তম ছওম এর তারাবীহ ★

আজ শনিবার দিবাগত রাতে ১৮তম ছওম এর তারাবীহ ছলাতে পবিত্র কোরআন থেকে ২১তম পারা তেলাওয়াত করা হবে।

২১তম পারা (সুরা আনকাবুতের ৪৫নং আয়াত থেকে সুরা আহযাবের ৩০নং আয়াত পর্যন্ত) থেকে সংক্ষেপে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো:-

১। নিশ্চয়ই ছলাত অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। [ সুরা আনকাবুত-৪৫ ]

২। হে ঈমানদার বান্দাগণ, আমার পৃথিবী প্রশস্ত। অতএব তোমরা আমারই এবাদত কর। [ সুরা আনকাবুত-৫৬ ]

৩। জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। [ সুরা আনকাবুত-৫৭ ]

৪। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা হ্রাস করেন। নিশ্চয়, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত। [ সুরা আনকাবুত-৬২ ]

৫। এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক বৈ তো কিছুই নয়। আর পরকালের গৃহই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত। [ সুরা আনকাবুত-৬৪ ]

৬। যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা কথা তৈরি করে, অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে, তার কি স্মরণ রাখা উচিত নয় যে, জাহান্নামই সেসব কাফেরের আশ্রয়স্থল হবে? [ সুরা আনকাবুত-৬৮ ]

৭। যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে যাবে। তাদের দেবতাগুলোর মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশ করবে না। এবং তারা তাদের দেবতাকে অস্বীকার করবে। [ সুরা রূম-১২,১৩ ]

৮। আর যারা কাফের এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।
[ সুরা রূম-১৬ ]

৯। তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্মরণ কর সন্ধ্যায় ও সকালে, এবং অপরাহ্নে ও মধ্যাহ্নে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে, প্রশংসা তাঁরই।
[ সুরা রূম-১৭,১৮ ]

১০। আল্লাহর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। [ সুরা রূম-২১ ]

১১। আল্লাহর আরও এক নিদর্শন হচ্ছে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
[ সুরা রূম-২২ ]

১২। তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। [ সুরা রূম-৩০ ]

১৩। সবাই আল্লাহ অভিমুখী হও এবং তাঁকে ভয় কর, ছলাত কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। [ সুরা রূম-৩১ ]

১৪। আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিযিক দিয়েছেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এরপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এসব কাজের মধ্যে কোন একটিও করতে পারবে? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান। [ সুরা রূম-৪০ ]

১৫। মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। [ সুরা রূম-৪৭ ]

১৬। আল্লাহ দূর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন, অতঃপর দূর্বলতার পর শক্তিদান করেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। [ সুরা রূম-৫৪ ]

১৭। আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোড় নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু’বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। [ সুরা লুকমান-১৪ ]

১৮। ছলাত কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ। [ সুরা লুকমান-১৭ ]

১৯। অহংকারবশে মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। [ সুরা লুকমান-১৮ ]

২০। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। [ সুরা লুকমান-১৯ ]

২১। পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও আল্লাহর বাক্যাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [ সুরা লুকমান-২৭ ]

২২। হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে। [ সুরা লুকমান-৩৩ ]

২৩। নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
[ সুরা লুকমান-৩৪ ]

২৪। আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব। [ সুরা সাজদা-১৩ ]

২৫। কেউ জানে না তার জন্যে তার কৃতকর্মের পরিনামে কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। [ সুরা সাজদা-১৭ ]

২৬। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের কৃতকর্মের আপ্যায়নস্বরূপ বসবাসের জান্নাত। [ সুরা সাজদা-১৯ ]

২৭। যে ব্যক্তিকে তার পালনকর্তার আয়াতসমূহ দ্বারা উপদেশ দান করার পরও, সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে যালেম আর কে? আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দেব। [ সুরা সাজদা-২২ ]

২৮। ফয়সালার দিনে কাফেরদের ঈমান তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না। [ সুরা সাজদা-২৯ ]

২৯। আল্লাহর উপর ভরসা কর। কার্যনির্বাহীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট। [ সুরা আহযাব-৩ ]

৩০। নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং নবীর স্ত্রীগণ মুমিনদের মাতা। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মুমিন ও মুহাজিরগণের মধ্যে যারা আত্নীয়, তারা পরস্পরে অধিক ঘনিষ্ঠ। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্য করতে চাও, করতে পার। এটা লওহে-মাহফুযে লিখিত আছে। [ সুরা আহযাব-৬ ]

৩১। যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।
[ সুরা আহযাব-২১ ]

৩২। হে নবী, আপনার পত্নীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার বিলাসিতা কামনা কর, তবে আস, আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দেই এবং উত্তম পন্থায় তোমাদের বিদায় দেই। [ সুরা আহযাব-২৮ ]

৩৩। পক্ষান্তরে, যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকাল কামনা কর, তবে তোমাদের সৎকর্মপরায়ণদের জন্য আল্লাহ মহাপুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। [ সুরা আহযাব-২৯ ]

(সংগ্রীহিত : এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন / শাহরিয়ার কবির)