সিয়াম ভঙ্গের কারণ এবং কাযা ও কাফ্‌ফারা সমূহঃ

ছিয়াম এর কাযা কি এবং কখন কাযা আদায় করতে হয়

কাযাঃ
শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে সময় মতো ছওম পালন করতে না পারলে অথবা  ছওম রেখে ভেঙে ফেললে, একটি ছিয়ামের পরিবর্তে অন্য সময়ে নিষিদ্ধ ৫ দিন ব্যতীত (ঈদুল ফিতর,ঈদুল আযহা এবং ঈদুল আযহা এর পরের তিন দিন) আরেকটি ছিয়াম পালন করাকেই কাযা বলে। 

কখন ছওম এর কাযা আদায় করতে হয়ঃ
মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার বাণীঃ

(فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ)

তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে, কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।”[সূরা বাক্বারাহ, ২:১৮৪]
(১) অসুস্থ ব্যক্তি। এমন অসুস্থ  যার রোগমুক্তির আশা করা যায়। 
(২) সফরে থাকলে সে সময় ছওম না রাখলে পরবর্তী সময়ে কাযা আদায় করা।
(৩) ছওম অবস্থায় মহিলাদের হায়েয বা নেফাস শুরু হলে ছওম ভেঙে যাবে এবং পরে তা কাযা করতে হবে।
(৪) সুবহে সাদিকের পর সাহরির সময় আছে ভেবে পানাহার বা স্ত্রীসঙ্গম করলে ছওম ভেঙে যাবে।  ইফতারির সময় হয়ে গেছে ভেবে সূর্যাস্তের পূর্বে ইফতার করলে ছওম ভেঙ্গে হয়ে যাবে এবং পরে কাযা আদায় করতে হবে।

(৫) ছওম রাখা অবস্থায় ভুলবশত পানাহার করে ছওম নষ্ট হয়ে গেছে ভেবে ইচ্ছাকৃতভাবে পুনরায় পানাহার করলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাযা করা জরুরি হবে।
(৬) গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী যদি নিজের বা শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তাহলে  রমাদানে ছওম না রেখে পরে তা কাজা করে নিতে পারবেন।

কাযা ছওম কখন আদায় করতে হবে?
রমাদান মাসের পর যত দ্রুত সম্ভব কাযা ছওম দায় করে নেয়া কর্তব্য। তাই ঈদের পরপর-ই যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাযা ছওম আদায় শুরু করা উত্তম। কোনো কারণ ছাড়া কাযা ছওম আদায় করতে বিলম্ব করা মাকরুহ। এক রমাদানের কাযা  ছওমগুলো আগামী রমজান আসার আগে আদায় করে নেয়া ওয়াজিব।

ছিয়ামের কাফ্‌ফারা

কাফ্‌ফারা
শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রমাদানের ছওম ভেঙে ফেললে তার জন্য কাজা ও কাফফারা উভয়টিই আবশ্যক।

কাফফারা আদায়ের পদ্ধতি
কাফফারা তিনভাবে আদায় করা যায়।

১. একজন দাস মুক্ত করা;

২. ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা পালন করা এবং

৩. ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো।

কখন ছওম এর কাফফারা আদায় করতে হয়ঃ

শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃত পানাহার বা সহবাসের মাধ্যমে রমাদানের ছওম ভেঙে ফেললে তার জন্য কাজা ও কাফফারা উভয়টিই আবশ্যক। 

ছওম এর ফিদইয়া

যে ব্যক্তি রমাদান মাস পেলেন কিন্তু তিনি সিয়াম পালনে সক্ষম নয়- অতিশয় বৃদ্ধ হওয়ার কারণে অথবা এমন অসুস্থ হওয়ার কারণে যার আরোগ্য লাভের আশা করা যায় না,তার উপর সিয়াম পালন ফরয নয়। তিনি ছওম ভঙ্গ করবেন।

এবং প্রতিদিনের বদলে এক ছওম এর  পরিবর্তে এক ফিদিয়া ফরজ হয়। এক ফিদিয়া হল, কোনো মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো অথবা এর মূল্য প্রদান করা।

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ 
আর যাদের জন্য তা (ছওম রাখা) কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদিয়া তথা একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা। অতএব যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর সিয়াম পালন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। [সূরা বাক্বারাহ, ২: ১৮৩-১৮৪]